মহাকাশের গল্প, রোবট ও ভার্চুয়াল রিয়েলিটিতে শিশুদের ‘ফিউচার অ্যাস্ট্রোনটস মিট-আপ’
ক.বি.ডেস্ক: মহাকাশের প্রতি আগ্রহ, বিজ্ঞানমনস্কতা ও সৃজনশীল চিন্তা বাড়াতে শিশু-কিশোরদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হলো ‘ন্যাশনাল ফিউচার অ্যাস্ট্রোনটস মিট-আপ ২০২৬’। মহাকাশের গল্প বলা থেকে শুরু করে হাতে-কলমে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কার্যক্রম, রোবট, রকেট এবং ভার্চুয়াল রিয়েলিটির অভিজ্ঞতা দিনব্যাপী নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে শিশুদের জন্য তৈরি হয় ভিন্নধর্মী এক মহাকাশভ্রমণের পরিবেশ।
শনিবার (৩ অক্টোবর) বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি (বিইউবিটি) ক্যাম্পাসে দিনব্যাপী এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। স্পেস ইনোভেশন ক্যাম্প ও বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি (বিইউবিটি) যৌথভাবে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে।
‘ন্যাশনাল ফিউচার অ্যাস্ট্রোনটস মিট-আপ ২০২৬’ এর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিইউবিটির উপাচার্য ড. এ বি এম শওকত আলী। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিইউবিটির ডিন ফ্যাকাল্টি অব কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ড. মুহাম্মদ আমিনুর রহমান। উপস্থিত ছিলেন ইউআইটিএস-এর অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর আল ইমতিয়াজ, স্পেস ইনোভেশন ক্যাম্পের প্রেসিডেন্ট আরিফুল হাসান অপু।
শুধু গল্প বলা বা প্রতিযোগিতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না আয়োজন। শিশুদের মহাকাশবিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সঙ্গে আনন্দের মাধ্যমে পরিচয় করিয়ে দিতে দিনব্যাপী ছিল বিভিন্ন হাতে-কলমে কার্যক্রম। বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে শিশুদের ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (ভিআর) প্রযুক্তির মাধ্যমে মহাকাশের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা দেখানো হয়। এর ফলে মহাকাশ সম্পর্কে বই বা শ্রেণিকক্ষের জ্ঞানের বাইরে গিয়ে প্রযুক্তির সাহায্যে নতুন ধরনের অভিজ্ঞতা নেওয়ার সুযোগ পায় তারা।
অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন স্কুলের ৪ থেকে ১৪ বছর বয়সী ৫০ জন শিশু-কিশোররা অংশগ্রহণ করে। প্রতিযোগিতার প্রথম ধাপে অংশগ্রহণকারীরা মহাকাশ নিয়ে নিজেদের স্বপ্ন, চিন্তা, কল্পনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে ৩ মিনিটের উপস্থাপনা করে। প্রথম ধাপ থেকে নির্বাচিত প্রতিযোগীরা দ্বিতীয় ধাপে ৫ মিনিটের চূড়ান্ত স্টোরিটেলিং-এ অংশ নেয়। প্রতিযোগীদের বয়স অনুযায়ী ৬-৮ বছর, ৯-১১ বছর এবং ১২-১৪ বছর এই তিনটি গ্রুপে ভাগ করা হয়। দুই ধাপের প্রতিযোগিতা শেষে তিনটি বয়সভিত্তিক গ্রুপ থেকে মোট ১৫ জনকে বিজয়ী হিসেবে পুরস্কৃত করা হয়।
প্রফেসর ড. এ বি এম শওকত আলী বলেন, ‘‘আজকের শিশুরাই আগামী দিনের বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী, উদ্ভাবক ও মহাকাশ গবেষক। নতুন প্রজন্মকে শুধু প্রযুক্তির ব্যবহারকারী হিসেবে গড়ে তুললেই হবে না; তাদের নতুন প্রযুক্তি ও জ্ঞান সৃষ্টির সক্ষমতাও অর্জন করতে হবে। জ্ঞান অর্জন, পরিশ্রম, অধ্যবসায় এবং নতুন কিছু জানার আগ্রহ শিশুদের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে পারে।’’
আরিফুল হাসান অপু বলেন, ‘‘শিশুদের কাছে মহাকাশকে শুধু বইয়ের একটি অধ্যায় হিসেবে সীমাবদ্ধ রাখতে চান না তারা। শিশুদের মহাকাশ নিয়ে প্রশ্ন করা, নিজের মতো করে ভাবা, গল্প বলা, রোবট তৈরি, রকেট সম্পর্কে জানা এবং ভবিষ্যতের পৃথিবী ও মহাকাশ কল্পনার সুযোগ তৈরি করাই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। আজকের এই শিশুদের মধ্য থেকেই একদিন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী, গবেষক কিংবা মহাকাশচারী তৈরি হতে পারে।’’
আয়োজকদের মতে, ‘ন্যাশনাল ফিউচার অ্যাস্ট্রোনটস মিট-আপ ২০২৬’ শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়; বরং শিশুদের আনন্দের সঙ্গে মহাকাশবিজ্ঞান শেখা, নিজেদের চিন্তা প্রকাশ করা এবং হাতে-কলমে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার একটি প্ল্যাটফর্ম। মহাকাশের গল্প, রোবট, রকেট, শিল্প, প্রযুক্তি এবং নতুন কিছু জানার আনন্দের মধ্য দিয়ে আয়োজিত এই মিট-আপ শিশুদের মধ্যে বিজ্ঞান ও মহাকাশ নিয়ে আগ্রহ তৈরিতে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন আয়োজকেরা।





