দেশে ব্যান্ডউইডথ সংকট বা ইন্টারনেটের মূল্য বাড়ার আশঙ্কা নেই: বিএসসিপিএলসি
ক.বি.ডেস্ক: সম্প্রতি দেশের ইন্টারনেট ব্যান্ডউইডথ সংকট ও ব্যান্ডউইডথের মূল্য বৃদ্ধি নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও অনলাইন পোর্টালে বিভ্রান্তিকর খবর প্রকাশিত হয়েছে। “ব্যান্ডউইডথ সংকটের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ, ইন্টারনেট খাতে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা” এবং “ব্যান্ডউইডথ সংকটে বাড়তে পারে ইন্টারনেটের মূল্য, কমতে পারে গতি”- এ ধরনের শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদগুলো বাস্তবতাসম্মত নয় বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস পিএলসি (বিএসসিপিএলসি)।
দেশের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ ব্যান্ডউইডথ চাহিদার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিএসসিপিএলসি প্রয়োজনীয় সক্ষমতা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। বর্তমানে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন দুটি সাবমেরিন ক্যাবল সিস্টেম SEA-ME-WE-4 ও SEA-ME-WE-5- এর পাশাপাশি নতুন SEA-ME-WE-6 সাবমেরিন ক্যাবল সিস্টেম বাস্তবায়নের কাজ চলছে।
বর্তমানে SEA-ME-WE-4 ও SEA-ME-WE-5-এর সম্মিলিত সক্ষমতা প্রায় ৭,২০০ জিবিপিএস। এর মধ্যে প্রায় ৪,০০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইডথ ইতোমধ্যে দেশে সরবরাহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি আরও প্রায় ৩,২০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইডথ সরবরাহের সক্ষমতা বিএসসিপিএলসির হাতে রয়েছে। ২০২৭ সালে SEA-ME-WE-6 চালু হলে রাষ্ট্রীয় সাবমেরিন ক্যাবল ব্যবস্থার সক্ষমতা আরও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। তখন এসব ক্যাবলের মাধ্যমে মোট প্রায় ৩৪,০০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ সরবরাহের সক্ষমতা অর্জিত হবে।
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)-এর প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, ২০৩০ সালে দেশে ব্যান্ডউইডথের মোট চাহিদা দাঁড়াতে পারে প্রায় ৩০,০০০ জিবিপিএস। এর বিপরীতে ২০২৭ সাল নাগাদ রাষ্ট্রীয় সাবমেরিন ক্যাবলগুলোর মোট ব্যান্ডউইডথ সক্ষমতা প্রায় ৪১,০০০ জিবিপিএসে উন্নীত হবে। ফলে দেশের ক্রমবর্ধমান ব্যান্ডউইডথ চাহিদা পূরণে পর্যাপ্ত সক্ষমতা থাকবে বলে জানিয়েছে বিএসসিপিএলসি।
এ ছাড়া দেশের ছয়টি আইটিসি অপারেটরের মাধ্যমে প্রয়োজন অনুযায়ী আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইডথ আমদানি করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিএসসিপিএলসি ইতোমধ্যে চতুর্থ সাবমেরিন ক্যাবল সিস্টেমে যুক্ত হওয়ার কার্যক্রমও শুরু করেছে। ফলে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইডথের চাহিদা পূরণে আরও সক্ষমতা তৈরি হবে।
ডবিএসসিপিএলসি জানিয়েছে, দেশের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ ব্যান্ডউইথ চাহিদা পূরণে প্রতিষ্ঠানটি সম্পূর্ণ প্রস্তুত। বর্তমানে আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইডথ সরবরাহে কোনও ঘাটতি নেই এবং ভবিষ্যতেও ঘাটতির কোনও আশঙ্কা নেই। গ্রাহকদের জন্য ইতোমধ্যে ব্যান্ডউইডথের মূল্য ধারাবাহিকভাবে কমানো হয়েছে এবং আকর্ষণীয় বিভিন্ন প্যাকেজের মাধ্যমে আরও সাশ্রয়ী মূল্যে ব্যান্ডউইডথ সরবরাহ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে ব্যান্ডউইডথের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আরও প্রতিযোগিতামূলক ও সাশ্রয়ী মূল্যে ব্যান্ডউইডথ সরবরাহের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
বিএসসিপিএলসির মতে, দেশে ব্যান্ডউইডথ সংকট বা ব্যান্ডউইডথের মূল্য বৃদ্ধির আশঙ্কা নিয়ে সম্প্রতি যে সংবাদগুলো প্রচারিত হয়েছে, সেগুলো সঠিক নয় এবং বিভ্রান্তিকর। এ ধরনের প্রচারে বিচলিত না হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ ও সাধারণ মানুষের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
দেশের ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জাতীয় কৌশলগত তথ্য অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিএসসিপিএলসি সবসময় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।





