সাম্প্রতিক সংবাদ

ডিজিটাল দক্ষতা ও সাইবার সচেতনতায় এগিয়ে এপিএসির গ্রাহকরা: ক্যাসপারস্কি

ক.বি.ডেস্ক: এশিয়া-প্যাসিফিক (এপিএসি) অঞ্চলের গ্রাহকরা অনলাইনে অন্য অঞ্চলের তুলনায় বেশি সক্রিয় এবং ডিজিটাল ঝুঁকি সম্পর্কেও ক্রমশ সচেতন হয়ে ওঠছেন। ক্যাসপারস্কি মার্কেট ইন্টেলিজেন্সের সাম্প্রতিক বি২সি পালস সার্ভে-তে দেখা গেছে, অনলাইন কেনাকাটা, ডিজিটাল অর্থব্যবস্থা, ডিজিটাল বিনোদন এবং অনলাইন যোগাযোগ সব ক্ষেত্রেই এপিএসির ভোক্তারা অন্য অঞ্চলের ভোক্তাদের চেয়ে সচেতন হচ্ছেন।

জরিপ অনুযায়ী, এপিএসি অঞ্চলের ৮০ শতাংশ ভোক্তা অনলাইন কেনাকাটা করেন, যেখানে বৈশ্বিক হার ৭১ শতাংশ। ডিজিটাল অর্থব্যবহারে এপিএসির হার ৭২ শতাংশ, বৈশ্বিকভাবে ৭০ শতাংশ। ডিজিটাল বিনোদনে এই হার ৭০ শতাংশ, বৈশ্বিক গড় ৬২ শতাংশ; আর ডিজিটাল যোগাযোগে এপিএসির হার ৬৮ শতাংশ, বৈশ্বিকভাবে ৬১ শতাংশ।

ডিজিটাল প্রযুক্তিকে অপরাধমূলক কাজে ব্যবহারের বিষয়েও এপিএসির ভোক্তাদের উদ্বেগ বৈশ্বিক গড়ের চেয়ে বেশি। জরিপে এ অঞ্চলের ৩৫ শতাংশ ভোক্তা এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, যেখানে বৈশ্বিক হার ৩২ শতাংশ। দেশগুলোর মধ্যে সচেতনতার হার সবচেয়ে বেশি থাইল্যান্ডে (৩৯ শতাংশ), মালয়েশিয়া (৩৮ শতাংশ), ইন্দোনেশিয়া (৩৫ শতাংশ), চীন (৩৪ শতাংশ), ভারত (৩২ শতাংশ) এবং ভিয়েতনাম (৩১ শতাংশ)।

ক্যাসপারস্কির এপিএসি অঞ্চলের কনজ্যুমার চ্যানেলের প্রধান চুন হং চি বলেন, “এ অঞ্চলের ৭৭ শতাংশ মানুষ যখন অনলাইনে যুক্ত এবং অনলাইন লেনদেনের প্রায় ৭০ শতাংশে ডিজিটাল ওয়ালেট ব্যবহৃত হচ্ছে, তখন সাইবার নিরাপত্তা আর ঐচ্ছিক বিষয় নয়। ২০৩০ সালের মধ্যে এ অঞ্চলে মোবাইল গ্রাহকের সংখ্যা ২.১১ বিলিয়নে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে ব্যক্তিগত তথ্য ও আর্থিক লেনদেন সুরক্ষিত রাখা এ অঞ্চলের দ্রুত বিকাশমান ডিজিটাল অর্থনীতির প্রতি আস্থা ধরে রাখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

এপিএসি দ্রুত মোবাইলনির্ভর হয়ে ওঠলেও এর সঙ্গে বাড়ছে মোবাইল সাইবার হামলার ঝুঁকিও। ক্যাসপারস্কি জানিয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে এ অঞ্চলের ভোক্তাদের লক্ষ্য করে প্রায় ৩০ হাজার মোবাইল হামলা প্রতিহত করা হয়েছে। ভারত ও ইন্দোনেশিয়ায় হামলার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি যথাক্রমে ১৮,১৮৭টি ও ১৫,১৬৩টি। এ ছাড়া গত বছরের একই সময়ের তুলনায় তাইওয়ানে মোবাইল হামলা ৩৭৩ শতাংশ, শ্রীলঙ্কায় ১৩২ শতাংশ, থাইল্যান্ডে ১২৭ শতাংশ, বাংলাদেশে ১০৮ শতাংশ, চীনে ৬৯ শতাংশ এবং ফিলিপাইনে ২৮ শতাংশ বেড়েছে।

চুন হং চি বলেন, “এ অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে মোবাইল হামলার সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পরিবর্তনশীল ডিজিটাল অভ্যাসেরই প্রতিফলন। প্রথম প্রান্তিকে শনাক্ত হওয়া প্রায় ৩০ হাজার মোবাইল হুমকি এ অঞ্চলের বিপুলসংখ্যক ডিজিটাল ব্যবহারকারীর তুলনায় কম মনে হতে পারে, তবে এটি হয়তো বড় সমস্যার কেবল একটি অংশ। ভারত ও ইন্দোনেশিয়ায় হামলার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি হলেও তাইওয়ান, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড ও বাংলাদেশের মতো দেশে বছরওয়ারি হামলা বৃদ্ধির ঘটনা দেখাচ্ছে যে, মোবাইল হুমকি এখন এ অঞ্চলের বড় ডিজিটাল অর্থনীতির বাইরেও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।”

তিনি আরও বলেন, “কমপিউটারের তুলনায় মোবাইল ফোনে অনেক সময় একই মাত্রার নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকে না। অথচ আর্থিক লেনদেন, সামাজিক যোগাযোগ এবং পেশাগত কাজের প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠছে মোবাইল ফোন। সাইবার অপরাধীরাও এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তাদের লক্ষ্য পরিবর্তন করছে। তাই মোবাইল ব্যবহারের বিস্তারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে মোবাইল নিরাপত্তাকেও এগিয়ে নেওয়া এখন বড় চ্যালেঞ্জ।”

এই পরিস্থিতিতে ডিভাইস ও সেবার মধ্যেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে ক্যাসপারস্কি। প্রতিষ্ঠানটির মোবাইল সিকিউরিটি এসডিকে, হু কলস এসডিকে এবং সেফ ওয়েব-এর মতো সমাধান মোবাইল ম্যালওয়্যার, ফিশিং, সন্দেহজনক কল এবং ক্ষতিকর ওয়েবসাইট থেকে ব্যবহারকারীদের সুরক্ষায় সহায়তা করতে পারে।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *