উদ্যোগ

অ্যাসেট প্রকল্পে বিসিএসের ইবিটি কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা কর্মশালা

ক.বি.ডেস্ক: অ্যাসেট (অ্যাক্সিলারেটিং অ্যান্ড স্ট্রেনদেনিং স্কিলস ফর ইকোনমিক ট্রান্সফরমেশন) প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ কমপিউটার সমিতি (বিসিএস) পরিচালিত এন্টারপ্রাইজ-ভিত্তিক ট্রেনিং (ইবিটি) কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইবিটি অ্যাসেট প্রকল্পের একটি কর্মসংস্থানমুখী প্রশিক্ষণ পদ্ধতি। এতে প্রশিক্ষণার্থীরা শ্রেণিকক্ষের পাশাপাশি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বাস্তব কর্মপরিবেশে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের সুযোগ পান। ফলে আধুনিক প্রযুক্তি, কর্মপরিবেশ, গ্রাহকসেবা এবং শিল্পখাতের বাস্তব চাহিদা সম্পর্কে সরাসরি অভিজ্ঞতা অর্জনের মাধ্যমে তাদের কর্মসংস্থানের সক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

শুক্রবার (১০ জুলাই) কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষা সচিব (কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ) মো. দাউদ মিয়া। বিশেষ অতিথি ছিলেন কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রকৌশলী আবুল খায়ের মো. আক্কাস আলী, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) শামসুর রহমান খান এবং অ্যাসেট প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মীর জাহিদ হাসান। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বিসিএস মহাসচিব মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম।

কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন অ্যাসেট প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী রবীন্দ্রনাথ মাহাত। বিসিএসের কোষাধ্যক্ষ আবুল হাসান ইবিটি কার্যক্রমের বাস্তবায়ন অগ্রগতি, অর্জন, চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। কর্মশালায় বিসিএস, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, অ্যাসেট প্রকল্প, ইন্ডাস্ট্রিয়াল স্কিলস ট্রেনিং প্রোভাইডার (আইএসটিপি), স্কিলস ট্রেনিং প্রোভাইডার (এসটিপি) এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিবৃন্দ অংশ নেন।

কর্মশালায় জানানো হয়, বিসিএসের আওতায় বর্তমানে ৬২টি প্রতিষ্ঠান প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ২৮৩টি প্রশিক্ষণ ব্যাচের মধ্যে ২৭৩টি সক্রিয় রয়েছে এবং ১০টি ব্যাচ নিষ্ক্রিয় বা বাতিল হয়েছে। এ পর্যন্ত চতুর্থ পর্যায়ে ৬ হাজার ৫৫২ জন প্রশিক্ষণার্থী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ৪ হাজার ৭৯২ জন পুরুষ, ১ হাজার ৭৬০ জন নারী, ২৩ জন প্রতিবন্ধী এবং ২০ জন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য রয়েছেন। বিসিএসের অধীনে মোট প্রশিক্ষণার্থী লক্ষ্যমাত্রা ৬ হাজার ৭৯২ জন।

বিসিএসের অধীনে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ও ডিজিটাল অর্থনীতি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে আইটি সাপোর্ট অ্যান্ড সার্ভিস, ডিজিটাল মার্কেটিং, গ্রাফিক ডিজাইন, ওয়েব ডিজাইন, পাইথনভিত্তিক ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট, ডেটা সায়েন্স, অ্যানালিটিক্স অ্যান্ড বিগ ডেটা, এআই ইন ইমারসিভ টেকনোলজি, জাপানি ভাষা, প্রফেশনাল কাস্টমার সার্ভিস, ব্যাক অফিস সার্ভিস এবং রিটেইল সেলস অপারেশনস।

সচিব মো. দাউদ মিয়া বলেন, ‘‘কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা কর্মসংস্থান সৃষ্টির একটি শক্তিশালী মাধ্যম। প্রশিক্ষণের গুণগত মান, জবাবদিহিতা, নিয়মিত উপস্থিতি, বাস্তব দক্ষতা অর্জন এবং প্রশিক্ষণ-পরবর্তী কর্মসংস্থানের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। প্রশিক্ষণার্থীরা যেন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কর্মবাজারে প্রবেশ করতে পারে, সে লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে আরও ফলাফলভিত্তিক ও শিল্পবান্ধব করতে হবে।’’

আয়োজকরা জানান, অ্যাসেট প্রকল্প, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর এবং বিসিএসের যৌথ উদ্যোগে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে আরও মানসম্মত, ফলাফলভিত্তিক এবং ভবিষ্যৎ কর্মবাজার উপযোগী করে তুলতে কাজ অব্যাহত থাকবে। তাদের প্রত্যাশা, এ উদ্যোগ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে একটি কার্যকর ও টেকসই মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *