উল্কাসেমির ১৯ বছর এবং ৬০০ তরুণ প্রকৌশলীর বিজয়ের গল্প
ক.বি.ডেস্ক: ১৯ বছর আগে বাংলাদেশে বসে বিশ্বমানের সেমিকন্ডাক্টর চিপ ডিজাইন করার কথা ভাবাটাও ছিল দুঃসাহস। কিন্তু সেই দুঃসাহসী স্বপ্নটিই আজ বাংলাদেশের হাই-টেক শিল্পের বাস্তবতা। ১৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করেছে দেশের সেমিকন্ডাক্টর খাতের পথিকৃৎ প্রতিষ্ঠান ‘উল্কাসেমি’। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ১০০০ এরও বেশি চিপের সফল ডিজাইন বা ট্যাপআউট এবং ৬০০-এর অধিক দক্ষ প্রকৌশলীর কর্মসংস্থান তৈরির মাইলফলক অর্জন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
উল্কাসেমি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকার রহমানস রেগনাম সেন্টার এবং ট্রেড ইন্টারকন্টিনেন্টাল সেন্টারে অবস্থিত দুটি ডিজাইন সেন্টারে ছিল উৎসবের আমেজ। এই আনন্দ আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ এনায়েতুর রহমান, চেয়ারপার্সন ড. আরিফা চৌধুরী রহমান, ভিপি অব ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ডিরেক্টররা।

মোহাম্মদ এনায়েতুর রহমান বলেন, “বিশ্বের প্রযুক্তি মানচিত্র দ্রুত বদলে যাচ্ছে। সাপ্লাই চেইন খুঁজছে নতুন ঠিকানা। মনে রাখতে হবে, আমাদের এই শিল্পের নাম সেমিকন্ডাক্টর। এখানে সুযোগের দরজা ন্যানোসেকেন্ডের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায়। তাই দেরি করার কোনও সুযোগ নেই। উল্কাসেমির প্রকৌশলীরা ১৮০ ন্যানোমিটার থেকে শুরু করে ১.৪ ন্যানোমিটারের মতো অতি-সূক্ষ্ম প্রযুক্তিতে কাজ করছেন। স্মার্টফোন, এআই চালিত কমপিউটার, কিংবা জীবন রক্ষাকারী মেডিকেল ডিভাইস, এর কোনোটির চিপ হয়তো ডিজাইন করা হয়েছে ঢাকার কোনও এক ডেস্কে বসে, কোনও এক বাংলাদেশি তরুণের হাতে।’’
বিশ্বখ্যাত টিএসএমসি ডিজাইন সেন্টার অ্যালায়েন্সের গ্লোবাল পার্টনার উল্কাসেমি। ১৯ বছরের এই পথচলায় উল্কাসেমির লক্ষ্য এখন আরও বড়; প্রচলিত রপ্তানির বাইরে গিয়ে বাংলাদেশকে একটি মাল্টি-বিলিয়ন ডলারের ‘ডিপ-টেক’ অর্থনীতির দেশে রূপান্তর করা। এর মাধ্যমে প্রচলিত রপ্তানি পণ্যের বাইরে গিয়ে উচ্চমূল্যের প্রযুক্তি-নির্ভর অর্থনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করতে প্রতিষ্ঠানটি বদ্ধপরিকর।





