তরুণ উদ্ভাবনের ঝলক: ডিডিআই এক্সপো-২৬ এ ইউআইটিএস-এর ৯ প্রকল্প
ক.বি.ডেস্ক: বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তরের পথে তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ যে ক্রমেই শক্ত ভিত গড়ে তুলছে, তার একটি স্পষ্ট প্রতিফলন দেখা যায় ‘ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো ২০২৬’ -এ। রাজধানীর বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে গত ২৮ থেকে ৩১ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত চার দিনব্যাপী এই প্রদর্শনীতে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও প্রযুক্তি সংস্থার পাশাপাশি দারুণভাবে নজর কেড়েছে ইউনিভার্সিটি অব ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড সায়েন্সেস (ইউআইটিএস)-এর শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবন।
বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ প্রযুক্তি প্রদর্শনী ডিডিআই এক্সপো-২৬ বাংলাদেশ কমপিউটার সমিতি (বিসিএস), আইসিটি বিভাগ এবং বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ (বিএইচটিপিএ) যৌথভাবে আয়োজন করে। এই প্রদর্শনীটি প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবন, আধুনিক ডিজিটাল সমাধান ও ভবিষ্যতমুখী প্রযুক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে দেশের উদ্ভাবনভিত্তিক ইকোসিস্টেমকে আরও দৃঢ়ভাবে তুলে ধরে।
ইনোভেশন জোনে ইউআইটিএস-এর শক্ত অবস্থান
প্রদর্শনীর অন্যতম আকর্ষণ ছিল ইনোভেশন জোন, যেখানে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নির্বাচিত ১৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৯টি প্রকল্প প্রদর্শিত হয়। এই প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনের মধ্যেই ইউআইটিএস-এর শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবিত ৯টি প্রকল্প স্থান করে নেয়, যা বিশ্ববিদ্যালয়টির গবেষণা ও উদ্ভাবনকেন্দ্রিক শিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি।
ইউআইটিএস-এর ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্স সেল (আইকিউএসি) ইনোভেশন হাবের তত্ত্বাবধানে তৈরি এসব প্রকল্পে প্রযুক্তির সঙ্গে সামাজিক প্রয়োজন, টেকসই উন্নয়ন এবং বাস্তব সমস্যার সমাধানের বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির নির্বাচিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে উন্নত কুলিং প্রযুক্তি থেকে শুরু করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক যানবাহন শনাক্তকরণ, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের সহায়ক স্মার্ট ডিভাইস, সৌরশক্তিনির্ভর রান্না ব্যবস্থা এবং দুর্যোগকালে জরুরি সাড়া প্রদানের মতো বাস্তবমুখী সমাধান।
প্রকল্পগুলোর মধ্যে ইউআইটিএস পেলটিয়ার্স উন্নত কুলিং সলিউশনের ধারণা তুলে ধরে, যা শক্তি দক্ষতার ওপর জোর দেয়। ইউআইটিএস মনোযোগ স্মার্ট ফোকাস অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে ডিজাইন করা হয়েছে, যা ব্যবহারকারীর মনোযোগ বৃদ্ধিতে সহায়ক। নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে ইউআইটিএস আর্টিফ্যাক্ট আর্মার এবং ইউআইটিএস হকআই সার্ভেইল্যান্স।
প্রাকৃতিক দুর্যোগে দ্রুত সাড়া দেয়ার লক্ষ্যে তৈরি ইউআইটিএস ক্লাউড ড্রোন, পরিবেশবান্ধব চিন্তার প্রতিফলন হিসেবে ইউআইটিএস স্ক্র্যাপ ভেঞ্চার, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য ইউআইটিএস সাউন্ড ভিশন এবং সৌরশক্তিনির্ভর হাইব্রিড রান্না ব্যবস্থার ধারণা দেয়া ইউআইটিএস হেলিওস্টোভ। সবগুলো প্রকল্পই সামাজিক ও টেকসই উন্নয়নের সঙ্গে প্রযুক্তির সংযোগ ঘটিয়েছে। পাশাপাশি, ইউআইটিএস অটো ট্রেস এআই প্রকল্পটি দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়ি শনাক্তে ক্যামস্ক্যানারভিত্তিক এআই সমাধান তুলে ধরে।
এই প্রকল্পগুলোর পেছনে কাজ করেছে ইউআইটিএস-এর বিভিন্ন বিভাগের উদ্যমী শিক্ষার্থীরা। দলগত কাজ, গবেষণা ও বাস্তব প্রয়োগের মাধ্যমে তারা দেখিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীরাও বাস্তব সমস্যার কার্যকর প্রযুক্তিগত সমাধান দিতে সক্ষম।
ইউআইটিএসপেলটিয়ার্স: আসিফ মাহমুদ, নুসরাত জাহান অ্যানি, কে এম জাকারিয়া, জিহাদুল জারিফ, প্রমী ক্লারা রোজারিও, ওমর ফারুক রাকিব ও মো. জাহিদুল ইসলাম; ইউআইটিএসমনোযোগ: ইয়াসমিন কবির কেয়া, ফাহিমা আবিদা চৌধুরী, অর্পা ভৌমিক ও সাওদা আক্তার; ইউআইটিএসআর্টিফ্যাক্ট আর্মার: আবদুল বাদশা, রুদ্র দাস, ইয়াসমিন আক্তার ও বুলবুল ভুঁইয়া; ইউআইটিএসক্লাউড ড্রোন: মোতালেব হোসেন ইমন, শারমিন ইমা, মো. ইব্রাহিম ও ফারহানা তুষি।
ইউআইটিএসস্ক্র্যাপ ভেঞ্চার: মোতালেব হোসেন ইমন, ফারহান তুসি, মো. ইব্রাহিম ও সিফাত হোসেন; ইউআইটিএসসাউন্ড ভিশন: ইশরাক উদ্দিন চৌধুরী, ফাহিমা আবিদা চৌধুরী ও সুমাইয়া বিনতে ইসমাইল; ইউআইটিএসহেলিওস্টোভ: কাজী মো. আজহার উদ্দিন আবীর ও ইশরাক উদ্দিন চৌধুরী; ইউআইটিএসহকআই সার্ভেইল্যান্স: কায়েস মাহমুদ, মো. মিনহাজুর রহমান, মো. মুবিনুল ইসলাম ও রেদওয়ানুল ইসলাম রাফি এবং ইউআইটিএস_অটো ট্রেস এআই: ইউনুস, সায়েম বিন এইচ রহমান, শাহিদা আক্তার রিমু ও নূর আ জান্নাত রুবা।
ডিডিআই এক্সপো-২৬ এ ইউআইটিএস-এর এই অংশগ্রহণ শুধু একটি প্রদর্শনীতে সাফল্য নয়, বরং এটি দেশের তরুণদের উদ্ভাবনী সক্ষমতা ও সম্ভাবনার একটি প্রতীক। শিক্ষার্থীদের গবেষণা, প্রয়োগমূলক জ্ঞান ও সামাজিক দায়বদ্ধতার সমন্বয় ভবিষ্যতে বাংলাদেশের প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।





