উদ্যোগ

টিএমজিবি সদস্যদের সন্তানদের মাঝে বৃত্তি ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ

ক.বি.ডেস্ক: দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত প্রযুক্তি সাংবাদিকদের সংগঠন টেকনোলজি মিডিয়া গিল্ড বাংলাদেশ (টিএমজিবি)- এর সদস্যদের সন্তানদের মাঝে শিক্ষাবৃত্তি ২০২৬ এবং শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক, মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থী। এই বৃত্তি শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে এবং তাদের ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনে সফল হতে সাহায্য করবে।

গতকাল শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাজধানীর পান্থপথের ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল একাডেমির বিজয় মিলনায়তনে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে টানা চতুর্থবারের মতো শিক্ষাবৃত্তি ২০২৬ এবং শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়। ৪২ জন শিক্ষার্থীকে বৃত্তি ও শিক্ষা উপকরণ প্রদান করা হয়।

টিএমজিবি শিক্ষাবৃত্তি ২০২৬ এবং শিক্ষা উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইউনিভার্সিটি অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি বাংলাদেশের ভাইস-চ্যান্সেলর ড. মোহাম্মাদ আবু ইউসুফ, ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির প্রফেশনাল স্ট্যাডিজ বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ মাহদী উজ জামান, বাংলাদেশ কমপিউটার সমিটির (বিসিএস) সভাপতি মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম, বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্কের (বিডিওএসএন) সাধারণ সম্পাদক মুনির হাসান, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কনট্যাক্ট সেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিংয়ের (বাক্কো) ফিন্যান্স সেক্রেটারি মোহাম্মাদ আমিনুল হক।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন টিএমজিবি সভাপতি মোহাম্মদ কাওছার উদ্দীন। সঞ্চালনা করেন টিএমজিবির সাধারণ সম্পাদক মুরসালিন হক জুনায়েদ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন টিএমজিবি সহ-সভাপতি (আন্তর্জাতিক সম্পর্ক) মইদুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ মাহাদী হাসান শিমুল, সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম দাস্তগীর তৌহিদ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক নাজনীন আক্তার লাকী, কার্যনির্বাহী সদস্য নাজমুল হোসেন সহ সদস্যবৃন্দ।

ড. মোহাম্মাদ আবু ইউসুফ বলেন, ‘‘প্রযুক্তিনির্ভর এই সময়ে আমাদেরকে সর্বাধুনিক প্রযুক্তিজ্ঞান নিয়ে মেধাকে কাজে লাগাতে হবে। শুধু রেডিমেড প্রযুক্তি ব্যবহার নয়, আমাদের প্রজন্মকে এই প্রযুক্তির পেছনের প্রযুক্তিও জানতে হবে। টিএমজিবির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের সন্তানদের এই ধরনের বৃত্তি ও শিক্ষা উপকরণ প্রদানের উদ্যোগ তাদের শিক্ষাজীবনে আরও উৎসাহ যোগাবে। এটি একটি মহৎ উদ্যোগ এবং সমাজের অন্যান্য ক্ষেত্রেও এই ধরনের উদ্যোগ প্রয়োজন।’’

মোহাম্মদ মাহদী উজ জামান বলেন, ‘‘নাসা সহ তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা সাম্প্রতিক সময়ে খুবই ভালো করছে। আগামীতেও এই ধরনের প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশকে তুলে ধরতে ও আগামী প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মেলাতে আমাদেরকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। এক্ষেত্রে সংগঠন হিসেবে টিএমজিবি নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জ, স্পেস ইনোভেশন ক্যাম্প, গ্লোবাল স্কলারস অলিম্পিয়াড সহ বিভিন্ন আয়োজনে সম্পৃক্ত হতে পারে। সেক্ষেত্রে আমার সর্বোচ্চ সহযোগিতা থাকবে।’’

মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘‘আমাদেরকে দেশের সকল শিশুর জন্য সমান শিক্ষার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। তাদেরকে গরিব কিংবা প্রত্যন্ত অঞ্চলের মেধাবী এমন ভেদাভেদের মাধ্যমে আলাদা করা যাবে না। নতুন প্রজন্মকে আগামীর জন্য যুগোপযোগি শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করতে টিএমজিবির এই ধারাবাহিক উদ্যোগ প্রশংসনীয়। আগামীতে শিক্ষাবৃত্তির পাশাপাশি চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা আয়োজনে সহায়তা করবে স্মার্ট টেকনোলজিস।’’

মুনির হাসান বলেন, ‘‘আমাদের নতুন প্রজন্ম পিছিয়ে নেই। তাদেরকে ঘরে ও স্কুলে বইয়ের মধ্যে বন্দি না রেখে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা, পাঠ্যক্রমের বাইরের বিভিন্ন আয়োজনে অংশগ্রহণ করানো এবং পরিবার-আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে নিয়মিত সাক্ষাত করানো উচিত। এতে তাদের মেধার যথাযথ বিকাশ ঘটবে। আগামীতে ম্যাথ অলিম্পিয়াড, রোবট অলিম্পিয়াড, চিলড্রেন সায়েন্স কংগ্রেস, জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াড সহ যেসব আধুনিক প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানের প্রতিযোগিতা রয়েছে সেখানে টিএমজিবির সদস্যদের সন্তানদের অংশগ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি।’’

মোহাম্মদ কাওছার উদ্দীন বলেন, ‘‘আমাদের সদস্যদের সন্তানদের যথাযথ শিক্ষার প্রতি উৎসাহিত করাই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। সেই লক্ষেই এ বছর চতুর্থবারের মতো শিক্ষাবৃত্তি ও শিক্ষা উপকরণ প্রদান করা হলো। আগামীতে এই উদ্যোগকে আরও বড় পরিসরে ও ভিন্ন আয়োজনে করার প্রচেষ্ঠা অব্যহত থাকবে।’’

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *