সাম্প্রতিক সংবাদ

মোবাইল আমদানিতে কাস্টমস ডিউটি ১০ শতাংশ করা হয়েছে

ক.বি.ডেস্ক: যেকোনও পণ্যের আমদানিতে আমদানিকারকদের বিভিন্ন ধরনের শুল্ক দিতে হয়, যার মধ্যে কাস্টমস ডিউটি অন্যতম। আজ (১ ডিসেম্বর) উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মোবাইল ফোন আমদানিতে কাস্টমস ডিউটি ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে অর্থাৎ প্রায় ৬০ শতাংশ হ্রাস করা হয়েছে। গাড়ি, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও কমপিউটার সহ অন্যান্য পণ্যের তুলনায় মোবাইল আমদানিতে শুল্ক উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে।

পাশাপাশি, ব্যবসায়ীদের হাতে থাকা বিটিআরসির নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আমদানি করা মোবাইল ফোনগুলোকে কোনও অতিরিক্ত শুল্ক ছাড়াই স্টক-লট হিসেবে ‘ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার’ (এনইআইআর) সিস্টেমে অনুমোদনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। অর্থাৎ, সরকারের পক্ষ থেকে আমদানি শুল্ক হ্রাস এবং বর্তমানে বাজারে থাকা মোবাইল ফোন বৈধকরণের সব যৌক্তিক দাবি মেনে নেয়া হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (১ ডিসেম্বর) ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহম্মদ জসীম উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে যে সিদ্ধান্তগুলো নেয়া হয়
বৈধ মোবাইল আমদানিকারকদের কাস্টমস ডিউটি ২৫ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশ এবং দেশীয় উৎপাদকদের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশ করা হয়েছে, যা যথাক্রমে ৬০ শতাংশ ও ৫০ শতাংশ হ্রাস করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বৈধ আমদানি ও দেশীয় উৎপাদন উভয়ই উৎসাহিত হবে এবং বাজারে মোবাইল ফোনের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে আসবে বলে সরকার আশা করছে।

আমদানির বিপরীতে উৎপাদনকে উৎসাহিত করতে আমদানি শুল্ক কমানোর বিপক্ষে মত থাকলেও বাস্তবতা বিবেচনায় সিডি ৬০ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এতে চলমান অর্থবছরে সরকারের প্রায় ৩৫ কোটি টাকা লোকসান হবে।

শহিদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা দেশজুড়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে, অভিযুক্ত খুনির ১৭টি সক্রিয় সিম পাওয়া গেছে। এ প্রেক্ষাপটে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর পক্ষ থেকে এনইআইআর বাস্তবায়ন ও জনপ্রতি সিম সংখ্যা কমানোর বিষয়ে জোরালো তাগিদ রয়েছে। শুল্ক যৌক্তিকভাবে কমানো হলে তবেই এনইআইআর কার্যকর করা হবে। আজ উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়েছে এবং এনইআইআর কার্যকরের জন্য সরকার সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

প্রবাসীদের বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে যে, প্রবাসীরা দেশে ফেরার পর তাদের ব্যবহার করা মোবাইল ফোন আগামী তিন মাস বন্ধ করা হবে না। কেউ তিন মাসের কম সময় দেশে অবস্থান করলে রেজিস্ট্রেশনের প্রয়োজন হবে না, তিন মাসের বেশি হলে পরে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে।

সাধারণ গ্রাহকদের ক্ষেত্রেও আগামী তিন মাস মোবাইল ফোন ব্লক করা হবে না এবং ব্যবসায়ীদের স্টক-লট নিয়মিত করা হবে। এজন্য বিটিআরসিকে মোবাইল ফোনের বৈধ নম্বরের তালিকা প্রদান করতে হবে শুধু। সরকার সব বৈধ ও যৌক্তিক দাবি মেনে নিয়েছে। শুল্ক কমানো হয়েছে, অবৈধভাবে আমদানি হওয়া মোবাইল ফোনও এই মুহূর্তে নিয়মের আওতায় আনার সুযোগ দেয়া হয়েছে।

সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের পাশাপাশি ডিজিটাল নিরাপত্তার স্বার্থে এনইআইআর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সিম, ডাটাবেজ ও এনইআরআর ডেটাবেজের অপব্যবহার রোধে নতুন টেলিযোগাযোগ অধ্যাদেশে কঠোর সুরক্ষা ধারা সংযোজন করা হয়েছে এবং যেকোনও অপব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

অবৈধ মোবাইল ফোন আমদানি রোধে দেশের সব স্থল ও বিমানবন্দরের কাস্টমস হাউজে কঠোর অভিযান শুরু হবে। এ ছাড়াও অবৈধভাবে আমদানি ও বিক্রয় করা মোবাইল ফোনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে দেশের বিভিন্ন পাইকারি বাজারে ও কাস্টমস হাউসে অভিযান পরিচালনা করে এসব অবৈধ মোবাইল ফোন জব্দ করা হতে পারে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আইন মেনে চলার জন্য সতর্ক করা হচ্ছে।

বিটিআরসি ভবনে হামলা ও ভাঙচুর
আজ যারা বিটিআরসিতে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে, তারা কোনোভাবেই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। এ ধরনের ন্যক্কারজনক ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত প্রত্যেককে চিহ্নিত করে আইনানুগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিচারের আওতায় আনা হবে। বিটিআরসি ভবনে হামলা ও ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *