ই-গভর্নেন্স ব্যবস্থা উন্নয়নে এটুআই ও গাম্বিয়ার সমঝোতা স্মারক সই
ক.বি.ডেস্ক: আইসিটি বিভাগের এটুআই প্রোগ্রাম এবং গাম্বিয়ার দুটি প্রতিষ্ঠান মিনিস্ট্রি অব পাবলিক সার্ভিস, অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ রিফর্মস, পলিসি কো-অর্ডিনেশন অ্যান্ড ডেলিভারি ও মিনিস্ট্রি অব কমিউনিকেশনস অ্যান্ড ডিজিটাল ইকোনমি তথ্যপ্রযুক্তি ও ই-গভর্নেন্স সহযোগিতা সম্প্রসারণে তিনপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে। গত বছর গাম্বিয়া বাংলাদেশের মাইগভ প্ল্যাটফর্ম গ্রহণের মধ্য দিয়ে যে অংশীদারিত্বের সূচনা হয়েছিল, এই চুক্তির মাধ্যমে তা আরও এগিয়ে নেয়া হলো।
সম্প্রতি ঢাকার একটি হোটেলে আয়োজিত এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। বিশেষ অতিথি ছিলেন আইসিটি সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী। উপস্থিত ছিলেন এটুআই-এর প্রকল্প পরিচালক মোহা. আব্দুর রফিক, হেড অব প্রোগ্রাম ম্যানেজমেন্ট আব্দুল্লাহ আল ফাহিম।
গাম্বিয়া প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন মিনিস্ট্রি অব পাবলিক সার্ভিস-এর স্থায়ী সচিব পাতেহ জাহ। প্রতিনিধিদলে প্রেসিডেন্ট কার্যালয়, পাবলিক সার্ভিস মন্ত্রণালয়, যোগাযোগ ও ডিজিটাল অর্থনীতি মন্ত্রণালয়, ন্যাশনাল রেকর্ডস সার্ভিস, গাম্বিয়া আইসিটি এজেন্সি, অ্যাকাউন্ট্যান্ট জেনারেলস ডিপার্টমেন্ট, সেন্ট্রাল ব্যাংক অব দ্য গাম্বিয়া এবং পাবলিক ইউটিলিটিজ রেগুলেটরি অথরিটিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, “এই উদ্যোগ গ্লোবাল সাউথভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার একটি কার্যকর দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। জনবান্ধব জনসেবা প্রদানে উপযোগী সলিউশন গড়ে তোলার দিকে উভয় দেশই এগিয়েছে যা সাধুবাদ পাওয়ার দাবি রাখে।”
শীষ হায়দার চৌধুরী বলেন, “ডিজিটাল সিস্টেমের গুরুত্ব তখনই পায় যখন তা সেবা পাওয়াকে সহজ করে। প্রক্রিয়ার শেষে নাগরিক কী পাচ্ছেন, কত দ্রুত, কত সহজভাবে এবং কতটা ন্যায্যভাবে সেবা দেওয়া হচ্ছে; সেই বিষয়গুলোতে আমাদের গুরুত্ব দিতে হবে।”
মোহা. আব্দুর রফিক বলেন, “এই সহযোগিতা ইতোমধ্যে প্রমাণ করেছে বাংলাদেশে উদ্ভাবিত ডিজিটাল সমাধান অন্যান্য দেশের বাস্তবতায়ও কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা সম্ভব। গত বছর গাম্বিয়ায় মাইগভ সফলভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমাদের ই-গভার্নেন্স সেবাগুলো বিশ্বব্যাপী অভিযোজনক্ষমতা স্পষ্ট হয়েছে। নতুন এই সমঝোতার লক্ষ্য একটি প্ল্যাটফর্মে সীমিত না থেকে, সেবা প্রদান আরও শক্তিশালী করতে বাংলাদেশি আরও সমাধান ও পদ্ধতি যুক্ত করা।”
আব্দুল্লাহ আল ফাহিম বলেন, “আমাদের জনবান্ধব ডিজিটাল সেবাগুলোকে বিশ্বের অন্যান্য দেশের জন্য কীভাবে আরও কার্যকর ও উপকারী করা যায় এ নিয়ে এটুআই কাজ করছে। গাম্বিয়ার সঙ্গে এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে দুই দেশের জনগণই একে অপরের অভিজ্ঞতা থেকে উপকৃত হবে বলে আমরা আশা করি।”
গাম্বিয়ার স্থায়ী সচিব পাতেহ জাহ বলেন, “আমরা বাংলাদেশে দেখতে এসেছি কাজ কীভাবে হয়, ই-গভর্নেন্স সিস্টেম কীভাবে তৈরি, পরিচালিত হয়, আর কীভাবে এগুলো মানুষের কাজে লাগে। এই এমওইউ আমাদের শেখার এই ধারাকে কাঠামোবদ্ধ করবে এবং দেশে ফিরে তা বাস্তব উন্নয়নে রূপ দিতে সহায়তা করবে।”
এই উদ্যোগ উভয় দেশের ভিন্ন অগ্রাধিকারকে বিবেচনায় রাখলেও কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে জনসেবা প্রদান। বাংলাদেশের জন্য এটি সরকার-থেকে-সরকার সহযোগিতার মাধ্যমে দেশীয় উদ্ভাবিত জনসেবা প্রযুক্তি ও বাস্তবায়ন অভিজ্ঞতা আন্তর্জাতিক পরিসরে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগকে আরও জোরদার করবে। অন্যদিকে গাম্বিয়ার লক্ষ্য হলো কাগজপত্রনির্ভরতা কমিয়ে, দপ্তরে দপ্তরে ঘোরাঘুরি ও সময় অপচয় হ্রাস করে নিয়মিত আবেদন ও অনুমোদন প্রক্রিয়াকে সহজতর ডিজিটাল ধারায় নিয়ে আসা।





