আত্মপ্রকাশ করলো মিলিয়ন এক্স বাংলাদেশ
ক.বি.ডেস্ক: বাংলাদেশ কি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দৌড়ে পিছিয়ে পড়বে, নাকি একে ব্যবহার করে নিজেদের উৎপাদনশীলতা ১০ গুণ বাড়িয়ে নেবে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে এবং দেশের ১০ লাখ নাগরিককে ‘এআই-নেটিভ’ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে আত্মপ্রকাশ করলো মিলিয়ন এক্স বাংলাদেশ।
গতকাল শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাজধানীর ড্যাফোডিল প্লাজায় ন্যাশনাল এআই বিল্ড এ থন এবং আজ শনিবার (১৭ জানুয়ারি) ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক (ইউএপি) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হলো ‘জেনেসিস এআই কনফারেন্স ২০২৬’। জেনেসিস এআই কনফারেন্সের মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করলো মিলিয়ন এক্স বাংলাদেশ।
উদ্বোধনী অধিবেশন: লক্ষ্য যখন ১০এক্স মাইন্ডসেট
কনফারেন্সের উদ্বোধন করেন বুয়েট-এর উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল হাসিব চৌধুরী। সঞ্চালনা করেন মিলিয়ন এক্স বাংলাদেশের ফাউন্ডিং কাউন্সিল মেম্বার প্রযুক্তিবিদ আনিস রহমান। বক্তব্য রাখেন ইউএপি-এর উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামরুল আহসান। যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন ড. ইউনূস শাহ।
অধিবেশন ১: জ্ঞানভিত্তিক ভবিষ্যত তৈরির সন্ধানে
‘বাংলাদেশের এআই বর্তমান অবস্থা’ শীর্ষক সেশনে বক্তব্য রাখেন বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. এমদাদ উল বারি (অব.), প্রভা হেলথের প্রতিষ্ঠাতা সিলভানা কাদের সিনহা, বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. সেলিয়া শাহনাজ, ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির চ্যান্সেলর আবু বকর হানিপ।
অধিবেশন ২: সমাজ ও অর্থনীতিতে এআই-এর প্রভাব
মিলিয়ন এক্স বাংলাদেশের ফাউন্ডিং কাউন্সিল মেম্বার ও সাইবেজ সফটওয়্যারের ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মাহাদী-উজ-জামান, স্কয়ার টয়লেট্রিজের সিইও মালিক মোহাম্মদ সাঈদ, ইউআইইউ-এর অধ্যাপক খন্দকার এ মামুন, ঢাকা এআই ল্যাবের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ ওলি আহাদ এবং লিঙ্ক-থ্রি টেকনোলজিসের সিটিও রাকিবুল হাসান বক্তব্য রাখেন।
অধিবেশন ৩: এআই ট্যালেন্ট ও ইকোসিস্টেম তৈরি
দক্ষ জনশক্তি তৈরি নিয়ে আয়োজিত ডেটাসফটের প্রেসিডেন্ট এম মঞ্জুর মাহমুদ আলোচনা করেন। ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির সিএসই বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. সাদিয়া হামিদ কাজী, আইইউবি-এর উপাচার্য অধ্যাপক ম. তামিম বক্তব্য রাখেন।

অধিবেশন ৪: লিডারশিপ পার্সপেক্টিভ ও এআই অ্যাকশন চার্টার
প্যানেল সেশনে ভিডিও বক্তব্য রাখেন ব্র্যাক-এর নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ। বক্তব্য রাখেন এসিআই গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. আরিফ দৌলা, ঢাকা ট্রিবিউনের সম্পাদক জাফর সোবহান, মিলিয়ন এক্স বাংলাদেশের ফাউন্ডিং কাউন্সিল মেম্বার আনিস রহমান, মোহাম্মদ মাহাদী-উজ-জামান, বিডিওএসএন-এর মুনির হাসান এবং এম মঞ্জুর মাহমুদ।
অনুষ্ঠানে বক্তরা বলেন, জাতীয় উন্নয়নের বড় বাধা অতিক্রম করতে প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনই আমাদের প্রধান শক্তি। উৎপাদনশীলতা বাড়াতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। বিশেষ করে কৃষি ও শিক্ষাক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে হবে। এআই মানুষের বিকল্প নয়, এটি মানুষের সক্ষমতা বাড়ানোর একটি শক্তিশালী সহায়ক টুল। দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য প্রবাসীদের অভিজ্ঞতা ও দেশীয় তরুণদের মেধার সমন্বয়ে একটি টেকসই ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা জরুরি। তরুণদের মধ্যে জ্ঞানভিত্তিক ‘১০এক্স মাইন্ডসেট’ তৈরি করতে হবে। অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল ব্যবস্থা রাজস্ব বাড়ায়, আর উচ্চমানের কানেক্টিভিটিই শক্তিশালী ডিজিটাল অবকাঠামোর প্রাণ।
বক্তরা আরও বলেন, এআই-এর লক্ষ্য শুধু অটোমেশন নয়, মানুষের জীবনে সর্বোচ্চ ইতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করা। আজকের চাকরির বাজারে শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন দক্ষতা-ভিত্তিক, সংক্ষিপ্ত ও বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণ। এআই ক্ষমতা দিতে পারে, কিন্তু পরিবর্তনের দায় ব্যক্তির নিজের। মনে রাখতে হবে এআই মানুষকে প্রতিস্থাপন করবে না, বরং এআই ব্যবহার করা মানুষই ভবিষ্যতে এগিয়ে থাকবে। এআই একটি বিশাল ইকুয়ালাইজার; এটি গ্রামের শিক্ষার্থীকেও শহরের সমান সুযোগ দিতে পারে। তাই এআই শুধু সিএসই শিক্ষার্থীদের জন্য নয় সবাই এর অংশীদার। বাংলাদেশের মতো দেশের জন্য এআই এক অনন্য সুযোগ। স্বাস্থ্য ও কৃষির মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে ছোট ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল ও এজ কম্পিউটিং ব্যবহার করে আমরা সাধারণ মানুষের জীবনে বাস্তব ও অর্থবহ পরিবর্তন আনতে পারি।
মিলিয়ন এক্স বাংলাদেশের অন্যতম ফাউন্ডিং কাউন্সিল মেম্বার ড. জুনায়েদ কাজী ‘বাংলাদেশ এআই অ্যাকশন চার্টার’-এর খসড়া প্রনয়ন নিয়ে বলেন, “আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এআই নীতিমালা, ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা এবং শিক্ষা খাতের রূপরেখা সংবলিত ‘এআই অ্যাকশন চার্টার-এর খসড়া প্রণয়ন করা হবে। আগামী ৬০ দিনের মধ্যে প্রণীত এই চার্টারের আনুষ্ঠানিক বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। আগামী ৯০ দিনের মধ্যে এআই প্রযুক্তির বাস্তব প্রয়োগ দেখানোর জন্য সুনির্দিষ্ট প্রজেক্ট বা প্রকল্পসমূহ সম্পন্ন করা হবে। আগামী ১ বছরের মধ্যে সফল প্রকল্পগুলোকে দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেয়া এবং বড় পরিসরে এর সুফল মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া হবে। এআই নিয়ে পরবর্তী ধাপে পৌঁছাতে হলে আমাদের নীতিনির্ধারক, ইন্ডাস্ট্রি এবং একাডেমিয়ার মধ্যে অভূতপূর্ব সমন্বয় দরকার।”





