সাম্প্রতিক সংবাদ

১৫০০ টাকার ফোন থেকে ১৪ কোটি গ্রাহক, সিম্ফনির চমক

ক.বি.ডেস্ক: স্বল্পমূল্যে আধুনিক মোবাইল প্রযুক্তি সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে পৌঁছে দেয়ার ধারাবাহিকতায় নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে দেশীয় মোবাইল ব্র্যান্ড সিম্ফনি। দেশের মুঠোফোন বাজারে ১৪ কোটি গ্রাহকের ঐতিহাসিক সংখ্যা অর্জন করেছে এডিসন গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠানটি। এই অর্জনকে দেশের মানুষের আস্থা ও ভালোবাসার প্রতিফলন হিসেবে দেখছে প্রতিষ্ঠানটি।

সিম্ফনী মোবাইলের ১৪ কোটিতম গ্রাহক হয়েছেন ময়মনসিংহের মাফিজা খাতুন। একই সঙ্গে ১৩ কোটি ৯৯ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯৮তম গ্রাহক হিসেবে ফরিদপুরের রুবেল হোসেন এবং ১৩ কোটি ৯৯ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯৯তম গ্রাহক হিসেবে নারায়ণগঞ্জের নাদিয়া আক্তার বিশেষভাবে নির্বাচিত হন। তিন গ্রাহককেই আনুষ্ঠানিকভাবে সংবর্ধনা ও পুরস্কৃত করেছে সিম্ফনি।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) এই বিশেষ মাইলফলক উদযাপন উপলক্ষে ঢাকার একটি স্থানীয় হোটেলে আয়োজন করা হয় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পী তৌসিফ মাহবুব, এডিসন গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও সিম্ফনি মোবাইলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাকারিয়া শাহিদ এবং সিম্ফনির সেলস ও মার্কেটিং বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ আবু সায়েম সহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে নিজের সঙ্গে সিম্ফনির পুরোনো সম্পর্কের স্মৃতিচারণ করেন তৌসিফ মাহবুব। তিনি বলেন, ‘‘২০০৯ সালে টিউশনি করে টাকা জমিয়ে ৭ হাজার ৯০০ টাকা দিয়ে সিম্ফনি এক্সপ্লোরার ডব্লিউ টেন ফোন কিনেছিলেন। সেই ফোন কেনার অনুভূতি এখনও তার কাছে বিশেষ স্মৃতি হয়ে আছে। সিম্ফনি শুধু একটি মোবাইল ফোনের ব্র্যান্ড নয়; বরং এটি তার জীবনের একটি বিশেষ সময়ের স্মৃতি এবং প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার অন্যতম মাধ্যম। তার ভাষায়, ‘সিম্ফনি মোবাইলই আমাকে স্মার্ট করেছে’।’’

সিম্ফনির এই অর্জনের পেছনে দেশের মানুষের আস্থাকেই সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন জাকারিয়া শাহিদ। তিনি বলেন, ‘‘১৯৯৯ সাল থেকেই মোবাইল শিল্পের সঙ্গে যুক্ত। তখন আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর আধিপত্য থাকলেও গ্রাহকদের প্রয়োজন ও প্রত্যাশা পুরোপুরি পূরণ হচ্ছিল না। বিশেষ করে ব্যাটারি লাইফ, সাউন্ড ও স্পিকারের মতো বিষয়গুলোতে গ্রাহকদের চাহিদা ছিল বেশি। গ্রাহকের সেই প্রয়োজনকে সামনে রেখেই সিম্ফনির যাত্রা।’’

জাকারিয়া শাহিদ আরও বলেন, ‘‘বর্তমানে মেমোরি, চিপসেট ও বিভিন্ন কম্পোনেন্টের মূল্য বৃদ্ধির কারণে বিশ্বজুড়ে মোবাইল ফোনের মূল্য বাড়লেও গ্রাহকের ওপর সেই বাড়তি ব্যয়ের চাপ কম রাখার চেষ্টা করছে সিম্ফনি। সিম্ফনি সত্যিকারের বাংলাদেশি ব্র্যান্ড এবং এই ব্র্যান্ড দেশের মানুষের গর্ব। একই সঙ্গে এর মাধ্যমে দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। ভবিষ্যতেও সিম্ফনির অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে বলে প্রত্যাশা করছি।’’

মোহাম্মদ আবু সায়েম বলেন, ‘‘সিম্ফনি বাংলাদেশে একটা আবেগের নাম। ২০০৮ সালে যাত্রার শুরুতেই দেশের আনাচকানাচে মোবাইল প্রযুক্তি পৌঁছে দেয়াকে প্রধান লক্ষ্য হিসেবে নিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি। ১৪ কোটি গ্রাহকের মাইলফলক সেই লক্ষ্য অর্জনের বড় প্রমাণ।’’

২০০৮ সালে যাত্রার পর ২০০৯ সালে এডিসন গ্রুপের অধীনে ব্যবসায়িক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করে সিম্ফনি। সে সময় আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর তুলনায় মাত্র ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকার মধ্যে ফিচার ফোন বাজারজাত করে সাধারণ মানুষের কাছে মোবাইল প্রযুক্তি পৌঁছে দেয় প্রতিষ্ঠানটি। পরবর্তী সময়ে দেশে কিউওয়ার্টি কিপ্যাড, টাচফোন এবং ২০১২ সালে স্বল্পমূল্যের অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন বাজারে এনে দেশের মোবাইল ফোন খাতে নতুন মাত্রা যোগ করে সিম্ফনি।

১৪ কোটি গ্রাহকের মাইলফলক অর্জনের পরও সাশ্রয়ী প্রযুক্তি সরবরাহের লক্ষ্য থেকে সরে আসছে না দেশীয় ব্র্যান্ডটি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে ভবিষ্যতে গ্রাহকদের প্রয়োজন অনুযায়ী আরও সাশ্রয়ী ডিভাইস দেয়ার প্রত্যয় জানিয়েছে সিম্ফনি।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *