ফ্রিল্যান্সারদের জন্য নিবন্ধন ও আইডি কার্ড উন্মোচন
ক.বি.ডেস্ক: বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সারদের জন্য একটি স্বচ্ছ, নিরাপদ ও হয়রানিমুক্ত ভেরিফিকেশন ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষুদ্র প্রয়াস হিসেবে দেশের প্রথম সরকারি ফ্রিল্যান্সার আইডি ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করা হয়েছে। আইসিটি বিভাগ ও আইসিটি অধিদপ্তর নির্মিত জাতীয় ডিজিটাল ফ্রিল্যান্সার নিবন্ধন ও আইডি কার্ড ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্ম freelancers.gov.bd চালু করা হয়েছে।
নতুন এই ফ্রিল্যান্সার আইডি কার্ডের মাধ্যমে নিবন্ধিত ফ্রিল্যান্সাররা ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ, ঋণ ও ক্রেডিট কার্ড সুবিধা, আর্থিক প্রণোদনা এবং সরকারি ও বেসরকারি প্রশিক্ষণ সহ বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা সহজে গ্রহণ করতে পারবেন। একই সঙ্গে এই প্ল্যাটফর্মটি একটি জাতীয় ফ্রিল্যান্সার ডেটাবেজ হিসেবে কাজ করবে, যেখানে ফ্রিল্যান্সারদের সংখ্যা, দক্ষতা ও কাজের ধরন সংরক্ষিত থাকবে, যা ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারণে সহায়ক হবে।
গতকাল মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে আইসিটি বিভাগের সভাকক্ষে জাতীয় ডিজিটাল ফ্রিল্যান্সার নিবন্ধন ও আইডি কার্ড ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্ম ফ্রিল্যান্সার আইডি কার্ড উন্মোচন করেন প্রধান অতিথি ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন আইসিটি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী, আইসিটি বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা, আইসিটি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবু সাঈদ এবং বাক্কো সভাপতি তানভীর ইব্রাহীম সহ বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধি, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের প্রতিনিধি, আপওয়ার্ক বাংলাদেশ গ্রুপের প্রতিনিধি, বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সার এবং বিভাগের কর্মকর্তাবৃন্দ।

বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, “অতীতের অভিজ্ঞতা, বিশেষ করে হয়রানি ও আর্থিক জালিয়াতির অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ ফ্রি রাখা হয়েছে। ইতিমধ্যে সাইটের ভিএপিটি সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে। এখন থেকেই সাইন আপ এবং ফ্রিল্যান্সার আইডির জন্য আবেদন করা যাবে। ফ্রিল্যান্সারদের ইউজার এক্সপেরিয়েন্স উন্নয়নে ফ্রিল্যান্সার কমিউনিটি লিডার ও বাক্কো যৌথভাবে কাজ করবে।”
তিনি আরও বলেন, “ফ্রিল্যান্সার কমিউনিটি লিডাররা স্বীকৃত পেমেন্ট মেথডে বার্ষিক ৫০ ডলারের মার্জিনকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন। আইসিটি বিভাগের প্রকৌশলীরা এই সফটওয়্যারটি তৈরি করেছেন এবং তারাই এর রক্ষণাবেক্ষণ করবেন। শিগগিরই এপিআইভিত্তিক ভেরিফিকেশন ব্যবস্থা চালু করা হবে। এপিআই ভেরিফিকেশনের দুই স্তর নিয়ে কমিউনিটির সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে। আইসিটি অধিদপ্তরের ২৯ জন প্রকৌশলী আইডি ভেরিফিকেশনে একটি রিসোর্স পুল হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। কারিগরি সহায়তার জন্য ৪ জন সাপোর্ট এক্সপার্ট, শেয়ারড রিসোর্স পুল হিসেবে ফ্রিল্যান্সারদের পাশে থাকবেন। ”
সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী বলেন, “এই উদ্যোগের ফলে ফ্রিল্যান্সারদের পরিচয় যাচাই সহজ হবে, ব্যাংকিং ও ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা কমবে এবং দেশের ফ্রিল্যান্সিং খাত আরও স্বচ্ছ ও গতিশীল হবে। আইসিটি বিভাগ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকে একটি ফরমাল চিঠি পাঠানো হবে, যাতে ভবিষ্যতে ম্যানুয়াল আইডির পরিবর্তে এই ডিজিটাল ফ্রিল্যান্সার আইডি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রহণ করে।”
মহাপরিচালক মো. আবু সাঈদ বলেন, “আগে যে সকল ফ্রিল্যান্সাররা টাকা পয়সা দিয়ে প্রতারিত হয়েছেন তাদের যদি কেউ অভিযোগ করে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আবেদন ফি, নবায়ন ফি ও প্রসেসিং ফি সহ সব ধরনের আর্থিক লেনদেন ও সংশ্লিষ্ট হয়রানি সম্পূর্ণভাবে বাতিল করা হয়েছে।”
তানভীর ইব্রাহিম বলেন, “ফ্রিল্যান্সার আইডি দেশের ফ্রিল্যান্সিং খাতকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেবে এবং হাজার হাজার তরুণকে বৈদেশিক আয়, প্রযুক্তিভিত্তিক কর্মসংস্থান ও পেশাগত স্বীকৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ প্রদান করবে। এই উদ্যোগ ফ্রিল্যান্সিং খাতকে একটি নিরাপদ ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোয় নিয়ে যাবে এবং ডিজিটাল অর্থনীতি ও বৈদেশিক আয় বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”





