জাতীয় ডেটা সেন্টারে উচ্চক্ষমতার জিপিইউ ও প্ল্যাটফর্ম এস-এ-সার্ভিস চালু
ক.বি.ডেস্ক: বিডিসেট প্রকল্পের আওতায় দীর্ঘদিন অব্যবহৃত উন্নত প্রযুক্তির গ্রাফিক্স প্রসেসিং ইউনিট (জিপিইউ) কার্যকরভাবে ব্যবহার করে জাতীয় ক্লাউড সক্ষমতা জোরদার এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের গবেষণা ও শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করতে জাতীয় ডাটা সেন্টারে নিউটানিক্স, প্ল্যাটফর্ম এস-এ-সার্ভিস ও জিপিইউ ক্লাউড সেবার উদ্বোধন করা হয়।
আজ বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ কমপিউটার কাউন্সিল অডিটোরিয়ামে প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব এই ক্লাউড সেবার উদ্বোধন করেন।
এজ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. মো. তৈয়বুর রহমান রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আইসিটি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী, বিশ্ব ব্যাংকের কো-টাস্ক টিম লিডার এবং ডিজিটাল ডেভেলপমেন্ট স্পেসালিস্ট সুপর্ণা রায় সহ বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং দপ্তর সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, ‘‘বিসিসির জাতীয় ডেটা সেন্টারে তীব্র সক্ষমতা সংকট ছিল। প্রসেসর ও স্টোরেজ প্রায় পূর্ণ থাকায় ডিজিটাল সেবা বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল। বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে এবং আধুনিক মনিটরিং ব্যবস্থা চালু হওয়ায় এখন সাইবার আক্রমণ ও নেটওয়ার্ক সমস্যাও আগেভাগে শনাক্ত করা যাচ্ছে। এতদিন সরকারি ডেটা সেন্টারগুলো আলাদা আলাদা ভাবে গড়ে ওঠায় দুর্যোগ মোকাবিলা, সাইবার নিরাপত্তা ও আধুনিক অ্যাপ তৈরির সুবিধা ছিল না।’’
ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, ‘‘এখন জাতীয় ডেটা সেন্টারে নতুন প্ল্যাটফর্ম চালু হওয়ায় আধুনিক ডিজিটাল সেবা তৈরি করা সহজ হয়েছে। এতে স্বয়ংক্রিয় নির্মাণ, পরীক্ষা, নিরাপত্তা যাচাই ও দ্রুত চালু করার সুবিধা রয়েছে, পাশাপাশি উচ্চ প্রাপ্যতা ও দুর্যোগ পুনরুদ্ধার সুবিধাও যুক্ত হয়েছে। ফলে ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা, জাতীয় তথ্য ব্যবস্থাপনা ও সাইবার নিরাপত্তা আইন মানা সহজ হবে। দেশে তথ্য সুরক্ষা জোরদার হওয়ায় নাগরিকের তথ্য চুরি এখন অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে এবং ক্লাউডভিত্তিক সেবা দ্রুত বাড়বে।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘আন্তর্জাতিক বড় ইন্টারনেট কোম্পানিকে দেশেই ডেটা সেন্টার স্থাপনের আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে ইন্টারনেট সাশ্রয়ী ও দ্রুত হয়। রিসোর্স অপ্টিমাইজেশনের মাধ্যমে হাজারের বেশি ভার্চুয়াল প্রসেসর যুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও গবেষণার জন্য শক্তিশালী চিত্রপ্রক্রিয়াকরণ যন্ত্রভিত্তিক শেয়ারযোগ্য ক্লাউড সুবিধা চালু হয়েছে, যা বড় আকারের ডেটা বিশ্লেষণ, নিরাপত্তা গবেষণা ও বৈজ্ঞানিক মডেল তৈরিতে কাজে লাগবে। সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে তথ্য আদান–প্রদানের জন্য একটি সমন্বিত ডিজিটাল সংযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজও চলছে। নতুন আইন ও প্রযুক্তির মাধ্যমে ভবিষ্যতে নাগরিকদের ভোগান্তি কমবে এবং দেশের ডিজিটাল অবকাঠামো আরও শক্তিশালী হবে।’’





